Home > জাতীয় > সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ কঠোর হাতে দমন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ কঠোর হাতে দমন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ১৩টি জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ কোনোভাবেইগ্রহণযোগ্য নয় এবং তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সকালে এ কথা বলেন তিনি।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনদের জন্য আবাসন, গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের উদ্বোধন করে এই বাসস্থানগুলো নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ১৩টি জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আ

মার মনে হয় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। কোনো মতেই আমরা এটা (জঙ্গিবাদ) গ্রহণ করব না।

দেশের সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভিক্ষাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

 

যেকোনোভাবেই হোক এটাকে দমন করে মানুষের জীবনে শান্তি, নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব। ভালো শিক্ষিত ছেলে অথবা দেখা যাচ্ছে ধনী পরিবারের সন্তান তারা বিপথে চলে যাচ্ছে। তারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাদের মেধা, তাদের শক্তি, তাদের মনন, তাদের কাজ করার ক্ষমতা যেটা দেশের ভালো কাজে লাগতে পারত সেটা ধ্বংসাত্মক কাজে কেন যাবে?’

এর আগে একই স্থান থেকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সাত জেলার ১০টি উপজেলায় ১১টি গুচ্ছগ্রামের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশে এখনো দুই লাখ ৮০ হাজার পরিবার গৃহহীন আছে। এই গৃহহীনদের তালিকা প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে সকল জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে খেটে খেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে সে মানসিকতা নিয়ে সকলে কাজ করবেন। অভাবে পড়ে ঘরের টিন বিক্রি, চাল বিক্রি বা কোনো প্রভাবশালীর হাতে পড়ে জমি বা বাড়ি যেন বিক্রি না হয় সেদিকে আপনারা দেখবেন। যদি কোনো সমস্যা হয় বলবেন আমরা তা সমাধান করব। কিন্তু আজ যে গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে যে ঘর আপনাদের দেওয়া হচ্ছে, যাঁরা পাচ্ছেন, যাঁরা সুবিধাভোগী আমি আশা করি তারা এগুলো সুরক্ষিত রাখবেন। নিজের পায়ে দাঁড়াবার জন্য আপনারা শ্রম দিয়ে শক্তি দিয়ে কাজ করবেন।’

দেশের সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভিক্ষাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

গুচ্ছগ্রামগুলো হচ্ছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলাধীন সানিয়াজং, লালমনিরহাট সদর উপজেলাধীন হীরামানিক ১ ও ২, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল কোট ভাজনী বালাদূতি, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বাইরাচুনা সিরাইল, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার অন্তর্গত বাগপুর-২, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রিফিউজি পাড়া-১,  রংপুরের পীরগাছা উপজেলাধীন জুয়ান-১, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলাধীন আর্জি জয়দেব, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলাধীন সালাইপুর এবং ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন কবিরপুর-৫।

এই ১১টি গুচ্ছগ্রামে ৩৯০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫ জন।

সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প ২য় পর্যায় প্রকল্পটি ১ অক্টোবর ২০১৫ সালে শুরু হয়েছে এবং প্রকল্পের ব্যাপ্তি ২০২০ সাল পর্যন্ত। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪১ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী দুই হাজার ৫০০ গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে ৫০ হাজার ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে। চলতি অর্থবছরে এই প্রকল্পের আওতায় ১৩৫টি গুচ্ছগ্রাম তৈরি করে ৪ হাজার ৬০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। যাতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি টাকা।

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম হীরা এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন)কবির বিন আনোয়ার ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *