Home > বন্দর নগরী > বাঁশখালীতে সংঘর্ষে আ’লীগের ১৬ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ

বাঁশখালীতে সংঘর্ষে আ’লীগের ১৬ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটনের অনুসারীদের ওপর স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যসহ ১৬ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের পাইরাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—বাঁশখালী উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন, আহমদ হোসেন, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ ফাহিম, মাঈনুদ্দিন, আবদুল্লাহ, অমিত চৌধুরী, হোসেন আহমদ, সাইফুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, নিকন দেব, আনোয়ার, গোপাল দাশ, শতদল বড়ূয়া, মাহমুদুল ইসলাম বদি, মো. রাশেদ ও মো. বাদশা।

আহতদের মধ্যে জামাল উদ্দিনের অবস্থা গুরুতর। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় যাওয়ার সময় আবদুল্লাহ কবির লিটন ও তাদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে স্থানীয় এমপির অনুসারীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অস্ত্রধারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা এলাকার গ্রিন পার্কে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভা আয়োজন করে তার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি স্মৃতি সংসদ। স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়নপ্রত্যাশী আ’লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন। বিকেলে তিনি অনুসারীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কের পাইরাং এলাকার দেলামিয়ার দোকান এলাকায় পৌঁছালে তাদের বাধা দেয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারীরা।

তারা আরও জানায়, খবর পেয়ে পৌরসভার অলি মিয়ার দোকান এলাকায় অবস্থান নেয় লিটনের অনুসারীরা। বাধা উপেক্ষা করে পৌরসভার দিকে যেতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা লিটন গ্রুপের লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে লোকজন দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কে।

সংঘর্ষে লিটন গ্রুপের ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেশমী বিশ্বাস বলেন, ‘ছররা গুলিতে আহত হয়ে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন বলেন, ‘আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় যাওয়ার সময় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের চাচা রশিদ আহমদ চৌধুরী ও তার ব্যক্তিগত সহকারী তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আমাদের গাড়িবহরে গুলি চালানো হয়েছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে যাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪০ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, তার ব্যক্তিগত সহকারী বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও তার চাচা সরল ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের কেউই কল রিসিভ করেননি।

সিটিজিনিউজ২৪ডটকম/এডিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *