Home > অর্থনীতি > বিনা শুল্কে পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি

বিনা শুল্কে পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি

এম এ কাইয়ুম : দ্রুত ও সহজে তৈরির জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় বন্ড সুবিধা। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করছে। বন্ডের আওতায় বিনা শুল্কে পণ্য এনে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য চোরাই পথে কেনাবেচার জন্য রীতিমতো সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্ড অনুমোদিত লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য এনে তা প্রক্রিয়াজাত করে হয় নিজে রপ্তানি করতে হয়, না হয় রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করতে হয়। এসব পণ্য বাজারে বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার সবচেয়ে বেশী হয় তৈরী পোশাক শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে। পোশাক তৈরীর প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পলিদানা, রেজিন, আর্টকাড, ডুপ্লেক্স বোর্ড, টেপ, কাঁচা তুলা, সুতা, জিপার, উল ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক আমদানি করে।

চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিমুখী পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে বন্ড সুবিধায় গত অর্থবছরে ৮০টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৫৭ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করে; শুল্ক মুক্ত সুবিধায় আনা পণ্য সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি করে এসব প্রতিষ্ঠান ৫৬ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়। আর এসব ঘটনায় গত অর্থ বছরের মোট ৯২টি মামলা করে বন্ড কমিশনারেট। এরমধ্যে শুল্ক ফাঁকির ১৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং জরিমানার এক কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ৩১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চোরাই পথে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হলো গোল্ডেন সন লিমিটেড। গত অর্থবছরের শেষ দিকে বন্ড সুবিধার আওতায় দশ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ১৬৯ টাকা রফতানিমুখী পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। এ আমদানিকৃত চালানে কাঁচামাল দিয়ে তৈরিকৃত বিভিন্ন ধরণের পণ্য অবৈধ অপসারণ করে তিন কোটি ১৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয় তারা।

এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত অর্থবছরের চারটি মামলা করে বন্ড কমিশনারেট। এতে অভিযোগ রয়েছে মোট ১৬ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮০ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে গোল্ডেন সন। ধারাবাহিক অপকর্ম করে আসা গোল্ডেন সনের বন্ড লাইসেন্স গত ২৯ অক্টোবর বাতিল করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

এ বিষয়ে গোল্ডেন সনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলাল আহমেদ বলেন, শতভাগ রপ্তানি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন বন্ড কমিশনার। ওনার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্প কারখানা বিরোধী মনোভাবে বন্ড প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ভয়ে থাকেন। তার নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে চট্টগ্রামের অসংখ্য বন্ড প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে।

এ প্রসঙ্গে কাস্টমস ও বন্ড কমিশনারেট  কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আমির মামুন বলেন, শতভাগ রপ্তানির শর্তে বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল এনে খোলাবাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। গত অর্থবছরে এ রকম সুবিধার অপব্যবহারকারী ৯২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক মামলা নিষ্পত্তি করে রাজস্বও আদায় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহাররোধে সরেজমিন কারখানা পরিদর্শন করছি আমরা। এতে শুল্ক ফাঁকির হার কমছে। এরপরও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে যারা গুরুতর অপরাধ করবেন, তাদের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেব আমরা।

সিটিজিনিউজ২৪ডটকম/এডিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *