Home > খেলা > বিশ্বকাপের গ্রুপগুলো কেমন হলো

বিশ্বকাপের গ্রুপগুলো কেমন হলো

বিশ্লেষকদের চোখে রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘মৃত্যুকূপ’ এফ গ্রুপ। ছবি: এএফপি

সেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ (১৯৯৪) থেকে শুরু। এরপর কাটা পড়েছে শুধু ফ্রান্স (১৯৯৮) এবং জার্মানি (২০০৬) বিশ্বকাপ। তা ছাড়া জাপান-কোরিয়া (২০০২), দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১০) এবং ব্রাজিল (২০১৪) বিশ্বকাপে একই গ্রুপে পড়ার ‘রোমান্স’ ধরে রেখেছিল আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও তার ব্যত্যয় ঘটছে না। ‘ডি’ গ্রুপে লিওনেল মেসিদের বাকি তিন প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়া!

‘ডি’ গ্রুপে সন্দেহাতীতভাবে আর্জেন্টাইন ফেবারিট। কিন্তু আসরটি যেহেতু বিশ্বকাপ, তাই কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যায় না। আইসল্যান্ডের কথাই ধরুন, রাশিয়া আসর দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটবে ১০ লাখেরও কম জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশটির। গত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেই দুর্দান্ত খেলার জন্য আইসল্যান্ড অনেকের চোখেই ‘পচা শামুক’—এ কারণে তাঁদের বিপক্ষে বাকি তিন দলের পা কাটার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে লুকা মডরিচ-ইভান রাকিতিচদের ক্রোয়েশিয়ার মতো দলকে ‘আই’ গ্রুপ থেকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চূড়ান্তপর্বের টিকিট কেটেছে আইসল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়া দলটার সম্ভাবনাও কম নয়। আফ্রিকার ‘সুপার ঈগল’ খ্যাত নাইজেরিয়া তো বরাবরই শক্তিশালী দল। তাই গতবারের রানার্সআপ আপ আর্জেন্টিনার জন্য শেষ ষোলোয় ওঠা বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু তারপরও ‘ডি’ গ্রুপ রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘মৃত্যুকূপ’ নয়। বিশ্লেষকদের চোখে রাশিয়া ‘মৃত্যুকূপ’ হলো ‘এফ’ গ্রুপ—জার্মানি, মেক্সিকো, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া! জার্মানি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসেই বরাবরই শক্তিশালী দল। মেক্সিকো গত ছয়টি আসরেই শেষ ষোলোয় ওঠা দল। সুইডেনও কম যায় না। এবারের বাছাইপর্বে ইতালির মতো দলকে ছিটকে ফেলে রাশিয়ার টিকিট কেটেছে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ-হেনরিক লারসন-গুনার নরডালদের দেশ। এ তিন দলের শক্তি বিবেচনায় দক্ষিণ কোরিয়া হয়তো কিছুটা পিছিয়ে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াই সেরা দল। সেই ’৮৬ আসর থেকে টানা বিশ্বকাপ খেলছে দলটি।

রিয়াল মাদ্রিদে সতীর্থ হলেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর সার্জিও রামোসও কিন্তু দেশের হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে লড়বেন একে-অপরের বিপক্ষে। ‘বি’ গ্রুপ থেকে স্পেনের মুখোমুখি হবে যে পর্তুগাল! এ গ্রুপের বাকি দুই দল মরক্কো ও ইরান। যেহেতু প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল উঠবে শেষ ষোলোয়, তাই ‘বি’ গ্রুপে স্পেন আর পর্তুগালই ফেবারিট। ‘সি’ গ্রুপে ফ্রান্সের কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াতে পারে ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়া। তবে পেরুর সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কিন্তু ব্রাজিলের শেষ ষোলোয় ওঠার সম্ভাবনা অনেকে এখন থেকেই দেখতে পাচ্ছেন! ‘ই’ গ্রুপে নেইমারদের তিন প্রতিপক্ষ তুলনামূলক সহজ—সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা ও সার্বিয়া। যদিও গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত দিয়েছে কোস্টারিকা। সুইসদের দলটা গত বিশ্বকাপের মতো না হলেও বেশ শক্তিশালি। সার্বিয়াও মোটামুটি শক্তিশালি দল। কিন্তু সেটা তিতের নেইমার-গ্যাব্রিয়েল জেসুস-কুতিনহো সমৃদ্ধ ব্রাজিলের সঙ্গে তুল্য নয়।

স্বাগতিক রাশিয়া বেশ কঠিন গ্রুপে পড়েছে। ‘এ’ গ্রুপে তাঁদের তিন প্রতিপক্ষ মিসর, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরব। শেষ দলটির সম্ভাবনা বাদ দিলে এ গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াই জমবে বাকি তিন দলের মধ্যে। তবে এই তিন দলের মধ্যে লুই সুয়ারেজের উরুগুয়েই ফেবারিট। ‘জি’ গ্রুপে ইংল্যান্ড আর বেলজিয়ামই ফেবারিট। ‘এইচ’ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি। দলগুলো যে মাঝারি শক্তির—পোল্যান্ড, সেনেগাল, কলম্বিয়া ও জাপান। তবে এর মধ্যে রবার্ট লেভানডভস্কির পোল্যান্ড আর হামেশ রদ্রিগেজের কলম্বিয়া ফেবারিট। সূত্র: এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *