Home > বন্দর নগরী > স্মৃতিফলকে নেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম!

স্মৃতিফলকে নেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম!

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংবলিত একটি স্মৃতিফলক রয়েছে। সেখানে একটি অংশে নেই সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ হওয়া ১২ মুক্তিযোদ্ধার নাম! দুই বছর আগে ফলকের তিনটি অংশ খসে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়, পরে পুনঃস্থাপন করা হয় তা। তবে ওই পুনঃস্থাপিত ফলকে নেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা। পুরো ফলকের মধ্যে পুনঃস্থাপন করা অংশটি খালি দেখা যাচ্ছে এখন। ডিসি কার্যালয়ের সংশ্নিষ্ট দপ্তরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ফাইলটি গায়েব হয়ে যাওয়ায় খসেপড়া অংশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে যোগদান করার পর একদিন দেখি, ডিসি কার্যালয়ের সামনের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিফলকের একটি অংশের ফলক নেই। খসে পড়ে গেছে কিছু অংশ। খসেপড়া অংশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম পুনঃস্থাপন করতে সংশ্নিষ্ট দপ্তর থেকে ফাইলটি তলব করলে ফাইলটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায়। ফাইলটি না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই খড়ে পড়া অংশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ছাড়াই পুনঃস্থাপন করে দিয়েছি ফলকটি।’

ডিসি মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, ‘খসে পড়া অংশে সেনাবাহিনীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ছিল। সেনাবিহনীকে চিঠি দিয়ে তালিকাটি নিয়ে খুব শিগগির নামগুলো পুনঃস্থাপন করা হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ফাইলটি না পাওয়া দুঃখজনক। এটি না পাওয়া গেলে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সংগ্রহ করে তা পুনঃস্থাপন করা উচিত ছিল।’

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক শওকত বাঙালী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় জোট ক্ষমতা থাকার সময় সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ও যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত বহু নথিপত্র ধ্বংস করেছে। এখন ১৫১ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ফাইল খুঁজে না পাওয়া তারই অংশ বলে মনে করছি। এক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন ডিসি আহমদুল রেজা চৌধুরী শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শিরোনামে একটি স্মৃতিফলক তৈরির পরিকল্পনা করেন। এ তথ্যটি যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা) জানার পর চট্টগ্রাম থেকে বদলিও করা হয় ডিসি রেজাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ডিসি হাসান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে তৈরি করেন এ স্মৃতিফলকটি। ফলকে চট্টগ্রাম জেলার ১৫১ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম ছিল।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিফলকটি ২৫ ফুট উচ্চতা এবং ৩০ ফুট প্রস্থের বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন ফলক। মার্বেল পাথরে খোদাই করে চট্টগ্রাম জেলার ১৪ উপজেলা, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিডিআরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামগুলো শোভা পাচ্ছে। এখন স্মৃতিফলকে ১৩৯ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম দেখতে পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *